দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা জ্বরে আক্রান্ত ২১ বছর বয়সী এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে।
শনিবার ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী নারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়ের নাম করিম সরকার (২৯)। তিনি উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কাজ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিয়াহাটা গ্রামের ওই নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে করিম নারী ওয়ার্ডে প্রবেশ করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ সময় তিনি চিৎকার করে নিজের মাকে ডাকেন এবং পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এর পরপরই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক ব্যক্তি দাবি করেন, এর আগেও করিমের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ওই ব্যক্তি এসে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চান। তাঁর ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা-ও জানতে চান। কথা বলার একপর্যায়ে কপাল ও গলায় হাত দেন। পরে পিঠে হাত দিয়ে বুকে হাত দেন এবং বলেন, তাঁর প্রচুর জ্বর। তখন তিনি চিৎকার করেন এবং পরে বিষয়টি নার্সকে জানান।
হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনার পর তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাসপাতালের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত বলেন, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত করিম সরকার ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এমএস/